শিরোনাম
ঢাকা-১৮ আসনকে স্মার্ট আসন হিসেবে গড়তে কাজ করে যাচ্ছি: খসরু চৌধুরী এমপি ড.কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম এলডিপির কার্যালয়ে জনগণের উদ্যেশে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণখানে রিকশাচালকদের মাঝে পানি বিতরণ করলেন খন্দকার সাজ্জাদ তীব্র তাপপ্রবাহে রিকশাচালকদের মাঝে পানি ও স্যালাইন বিতরণ ১০ দিনে তুরাগ থানার পরিবর্তনের ছোঁয়া কালীগঞ্জের নাগরিতে সন্ত্রাসীদের তান্ডব উত্তরায় প্রকৌশলীকে পিটিয়ে হত্যা, মূল হোতা নাজমুল ধরাছোঁয়ার বাইরে উত্তরায় বফেট লঞ্চের শুভ উদ্বোধন উত্তরা ৪৭ নং ওয়ার্ড এ খন্দকার সাজ্জাদ হোসেনের ঈদের নামাজ আদায় উত্তরখানে খসরু চৌধুরী এমপির ঈদ উপহার বিতরণ
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

উত্তরায় প্রকৌশলীকে পিটিয়ে হত্যা, মূল হোতা নাজমুল ধরাছোঁয়ার বাইরে

রিপোটারের নাম / ৮৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজধানীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে মোহাম্মদ ফুলবাবু (৩৯) নামে এক প্রকৌশলীকে বেধম মারধরের পর হত্যা অভিযোগ করেছে স্বজনরা।

গত শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফুলবাবু মারা যান। ওইদিনই প্রকৌশলী ফুলবাবুর স্ত্রী মোছা. জোসনা খাতুন (৩৬) দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫/৭ জনকে আসামী করে মামলা করেন। মামলার আসামি আসমানী পরিবহনের বাস চালক মো. আল আমিনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বাসের হেলপার মো. মাসুদ রানা (৩৪)। নিহত প্রকৌশলীকুড়িগ্রাম সদর মোগলবাসা ইউনিয়নের কিশামত মালভাঙ্গা গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে।

স্বজনদের অভিযোগ, এই ঘটনার মূলহোতা ও নির্দেশদাতা আসমানী পরিবহনের লাইনম্যান নাজমুলকে মামলায় আসামি করা হয়নি। ঘটনার পর নাজমুল মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বাসটি আজমপুর থেকে তিন কর্মচারীকে তুলে নিয়ে আবদুল্লাহপুরে আসার আগে নাজমুলকে ফোন করে লোকজন নিয়ে জড়ো হতে বলা হয়। সেখানেই নাজমুলের উপস্থিতিতে বেধম মারধরের ঘটনায় প্রকৌশলী ফুলবাবু অসুস্থ হলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বাদী জোসনা খাতুন মামলায় উল্লেখ করেন, তার স্বামী মোহাম্মদ ফুলবাবু চায়না জিজোবা গ্রুপ অব কোম্পানীর (সিজিজিসি) সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। গত শনিবার বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে তার স্বামীর ভাগিনা মো. আমিনুলের মাধ্যমে খবর পান শনিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তার স্বামী মোহাম্মদ ফুলবাবু উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সংবাদ পাওয়ার পর হাসপাতালে এসে দেখেন তার স্বামীর নিথর দেহ পড়ে আছে। পরে জানতে পারেন সিজিজিসি কর্মচারী মো. ইয়াছিনের (১৯) গাজীপুর রাস্তায় ফ্লাইওভার ভাঙার কাজ চলতে থাকায় রাস্তায় চলাচলরত গাড়ি ও লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। দুপুর ১২ টায় আসমানী পরিবহনের ঢাকা টু মদনপুরগামী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৯৪৭৭) উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ৭ নম্বর সেক্টরের আজমপুর ওভারব্রীজের নীচে এসে যাত্রী নামানোর সময় কর্মচারী ইয়াছিন আসমানী পরিবহনের বাসটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলেন। একপর্যায়ে বাসের হেলপার মাসুদ রানার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে আসমানী পরিবহণের হেলপার মাসুদ রানা ইয়াছিনকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বাসটি চলন্ত অবস্থায় হাউজ বিল্ডিংয়ের সামনে ইয়াছিনকে নামিয়ে দেন। বিষয়টি সিজিজিসি কোম্পানির কর্মচারিসহ অন্যান্য স্টাফরা জানতে পেরে পায়ে হেঁটে ও ২/৩টি মোটরসাইকেলে করে আব্দুল্লাহপুর এসে আসমানী পরিবহনের বাসটিকে আটক করে। ওইসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

মামলা আরও উল্লেখ করা হয়, মারামারির একপর্যায়ে বাসের হেলপার সিজিজিসির তিন কর্মচারীকে ধউর এলাকায় তাদের ডিপোতে নিয়ে যায়। ওইসময় তার স্বামী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফুলবাবুসহ কয়েকজন আব্দুল্লাহপুরে থেকে যায়। ঘটনা বেগতিক দেখে আসমানী পরিবহনের সুপার ভাইজার ধউর থেকে দ্রুত বাসে থাকা ৩ কর্মচারীসহ আব্দুল্লাপুরে আনতে বলা হলে অল্প সময়ের মধ্যে আব্দুল্লাহপুরে বাসটি চলে আসে। ওইসময় দায়িত্বরত থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে দুই পক্ষকে থানায় আসতে বলে। তারা থানায় যাওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার জন্য উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফুলবাবু বেলা ১টা ৫০ মিনিটে মারা যান।

নিহতের স্ত্রী মামলা উল্লেখ করেন, বাস চালক মো. আল আমিন ও হেলপার মো. মাসুদ রানাসহ ৫/৭ জন তার স্বামীকে বেধম মারধরের পর আহত করার কারণেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. আল আমিন সময়ের আলোকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাসের চালক মো. আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হেলপারসহ জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মো. আবুল হাসান সময়ের আলোকে বলেন, ঘটনার পরপরই বাস চালককে গ্রেফতার করেছি। হেলপারকে ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। এর সঙ্গে আরও যারা জড়িত সিসি ক্যামেরার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অজ্ঞাতদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ